Q: What is a Hazard. Discuss what are the characteristics of hazard.
প্রশ্নঃ দুর্যোগ কাকে বলে? দুর্যোগের বৈশিষ্ট্য গুলি কি কি তা আলোচনা করো।
***************************************************************************************************************
দুর্যোগ:
দুর্যোগের ইংরেজি প্রতিশব্দ “Hazard”, যা এসেছে আরবি শব্দ “Az-zahr” থেকে যার অর্থ দৈব ঘটনা বা অদৃষ্ট । আবার বলা যেতে পারে যে, শব্দটি এসেছে প্রাচীন ফরাসি শব্দ ‘Hasard’ থেকে। দুর্যোগ হল প্রাকৃতিক বা মানবিক কারণে সৃষ্ট ক্ষতিকর দুর্ঘটনাবিশেষ। যার কারণে বাহ্যিকভাবে ক্ষতিসাধন, জীবনহানি বা পরিবেশগত ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়। তবে সাধারণভাবে ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্যোগ বলতে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগকেই বুঝে থাকি। কারণ অধিকাংশ দুর্যোগই প্রকৃতির তাণ্ডবলীলার কারণে সংগঠিত হয়ে থাকে।
সংজ্ঞা:
ভূবিজ্ঞানী Ketes ও Button এর মতে, প্রাকৃতিকভাবে সংগঠিত কোনো ঘটনা বা উপাদান যা মানুষের সমাজ এবং পরিবেশের ক্ষতি করে তাই হল দুর্যোগ।
Gilbert F. White এর মতে, দুর্যোগ হল নানান প্রাকৃতিক, জৈবিক এবং সামাজিক আন্তঃক্রিয়ার প্রভাব।
অধ্যাপক সত্যেশ চক্রবর্তীর মতে, “এমন বহু প্রাকৃতিক ঘটনা যেগুলি নিয়মিত এবং ছন্দময় ব্যবধানে সংগঠিত হয় না এবং যেগুলি যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সংগঠিত করতে পারে সেগুলিকেই বলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
UNO (United Nations Organisation)-এর সংজ্ঞানুসারে, ‘প্রকৃতি ও মানুষের কার্যাবলীর মাধ্যমে সৃষ্ট যে সকল ঘটনাবলি জীবন ও সম্পত্তির হানি ঘটায়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি অথবা পরিবেশের গুণমানের অবনমন ঘটায়, তাকেই বলে দুর্যোগ।”
দুর্যোগের বৈশিষ্ট্য: দুর্যোগের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল-
(i) প্রকৃতি: প্রকৃতিগত দিক থেকে দুর্যোগ একটি প্রাকৃতিক কিংবা মানবিক নেতিবাচক আকস্মিক ঘটনা বা দুর্ঘটনা, যাকে সহজেই প্রত্যক্ষ করা যায়।
(ii) ঝুঁকি: দুর্যোগের বিপজ্জনক পরিস্থিতি মানুষের কাছে যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে এই ধরনের পরিস্থিতি অনেকসময় একটি চরম অবস্থা ডেকে আনে।
(iii) উপাদান: দুর্যোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান, যেমন- ভূতাত্ত্বিক, ভূমিরূপগত, জলবায়ুকেন্দ্রিক কিংবা মানুষের বিভিন্ন আর্থসামাজিক-সাংস্কৃতিক। ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি মুখ্য উপাদান রূপে কাজ করে।
(iv) মাত্রা: দুর্যোগ সর্বদা ভূপৃষ্ঠের কোনো একটি স্থানের ওপর ক্ষুদ্র স্কেলে সম্পন্ন হয়।
(v) গতিপথ: যে-কোনো দুর্যোগের ক্ষেত্রে দুই ধরনের গতিপথ লক্ষ করা যায়, যেমন- প্রথমটি অস্বাভাবিক ও বিক্ষিপ্ত ধরনের। দ্বিতীয়টি হল স্বাভাবিক ও অনুক্রমিক ধরনের।
(vi) ব্যাপ্তিকাল: বেশির ভাগ দুর্যোগের ব্যপ্তিকালে অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী হয়ে থাকে।
(vii) প্রভাব: একমাত্র কোনো প্রবল দুর্যোগ ছাড়া, এর দ্বারা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আপাতভাবে যথেষ্ট দুর্যোগের কম, তবে দুর্যোগের ব্যাপকতায় জীবন ও সম্পত্তিহানির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। দুর্যোগ শুধুমাত্র মানুষের জীবনকেই প্রভাবিত করে না, সমস্ত জীবকূল, কীটপতঙ্গ, এবং পরিবেশের যেকোনও সব অংশেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
(viii) পরিণতি: কোনো স্থানে ব্যাপকভাবে ঘটে যাওয়া দুর্যোগের পরিণতি বিপর্যয়কে ডেকে আনে।
(ix) নিয়ন্ত্রণ: আধুনিক যুগে জনসচেতনতা, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনার দ্বারা অনেক দুর্যোগকেই নিয়ন্ত্রিত করা যায়।
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
6295916282; 7076398606





